Home / Article / লোগো (LOGO) ও (Symbol) প্রতীকের মধ্যে পার্থক্য কী?

লোগো (LOGO) ও (Symbol) প্রতীকের মধ্যে পার্থক্য কী?

nike-logo & Symbol

 

অনেক ডিজাইনমনা মানুষের প্রচণ্ড বিরক্তি ও রাগের অনেকগুলো কারণের মধ্যে লোগো শব্দটির ভুল ব্যবহার অন্যতম (অনেকটা মুদ্রাক্ষর ও ফন্টের বিতর্কের মত)। তাদের মতে লোগো প্রতীকের মত নয়, আবার সমন্বয় চিহ্ন এর মতও নয়।

তাহলে পার্থক্য কী? সক্ষিপ্তভাবে: একটি লোগো হচ্ছে একটি শব্দ, একটি প্রতীক হল একটি ছবি বিশেষ এবং সমন্বয় চিহ্ন হল দুটির সমন্বয়। পেন্টাগ্রামের মাইকেল বিয়েরুত এবং অ্যামুনিশান গ্রুপের ব্রেট উইকেনস এর মতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সবকিছুর জন্য লোগোর ব্যবহার ঠিকই ধরা যায়। তবে পণ্ডিতব্যক্তিরা এটা পছন্দ নাও করতে পারে।

লোগে বনাম প্রতীক

যদিও কোনও ব্র্যান্ডকে দৃশ্যমানভাবে প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে তৈরি কোনও প্রতীকি চিহ্ন বিশেষকে অনেকেই লোগো বলে থাকে, লোগো শব্দটি ‘logotype’ শব্দের সংক্ষিপ্তরূপ হিসেবেই ব্যবহৃত হয় গ্রিক ভাষায় যার অর্থ ‘শব্দাঙ্কন’, এ কারণেই মাঝে মাঝে এটিকে শব্দপ্রতীকও বলি আমরা। এই ধারণা থেকে বলা যায়, সত্যিকারের লোগো হচ্ছে কেবলমাত্র সেগুলোই যেগুলো নকশাকরা বর্ণ দিয়ে তৈরি কোন কোম্পানির পুরো নাম বহন করে। সুন্দরভাবে বাঁকানো যুক্তাক্ষরে কোকাকোলার প্রতীকী চিহ্নটি তাই একটি লোগো। পল র্যানন্ডসের ভেনেসিয়ান বিন্যাসের আইবিএম একটি শব্দপ্রতীক। অন্যান্য লোগেগুলো হল, সিএনএন, সনি, স্যামসাং, রে-ব্যান, ডেল, নাসা, ফেড-এক্স এমনকি ফাস্ট কোম্পানি ‘এফসি’। সাধারণভাবে যদি কোম্পানির প্রতীকে পড়া যায় এমন কিছু না থাকে তাহলে সেটা কোনওভাবেই লোগে বা লোগোটাইপও নয়।

কিন্তু বিশ্ব অর্থনীতিতে লোগোর প্রকারভেদেরগুলোর কিছু সমস্যা রয়েছে। কারণ সেগুল পড়ার ক্ষমতার উপর নির্ভর করে। যেমন, আমেরিকান কোম্পানির লোগেটাইপগুলো ল্যাটিন বর্ণ ব্যবহার করে না এমন দেশের মানুষদের কাছে বিভ্রান্তিকর মনে হতে পারে। কখনও কখনও কোম্পানিগুলো বিভিন্ন বাজারের কথা চিন্তা করে ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় লোগেটাইপ তৈরি করে। উদাহরণ স্বরূপ, কোকা-কোলা একইরকম বিন্যাসে বিভিন্ন ভাষার বর্ণ ব্যবহার করে লোগেটাইপ তৈরি করে।
এই সমস্যা বিবেচনায় বর্তমান সময়ে অনেক কোম্পানি আরও বিমুর্ত পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছে। নিজেদের ব্র্যান্ডকে প্রকাশ করার জন্য তারা বৈশ্বিক বিমুর্তচিত্র তৈরি করে নিচ্ছে। অ্যাপলের বিখ্যাত আপেলটি তেমনই একটি প্রতীক। এয়ারনবের নতুন লোগেটিও তেমনই একটি প্রতীক। প্রতীকের আরও উদাহরণ হল, রেড ক্রস, রেড ক্রিসেন্ট, দ্য শেল গ্যাস স্টেশান, নাইকির প্রতীকি চিত্র।

সমন্বয় চিহ্ন
সবশেষে আসছে সমন্বয় চিহ্ন। এই চিত্রগুলো কোন কোনও কোম্পানি বা অর্গানাইজেশানকে প্রকাশ করার জন্য শব্দ ও বিমুর্ত প্রতীকের সমন্বয়ে সৃষ্টি একটি ছবি বিশেষ। ম্যাকডোনাল্ডস, ডমিনস পিৎজা, স্টারবাকস, টিভো, এটি&টি এর সবগুলো কোম্পানিই সমন্বয় চিহ্ন ব্যবহার করে। কিছু কিছু কোম্পানি অবস্থাভেদে লোগেটাইপ ও প্রতীক দুটিই ব্যবহার করে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, নাইকির লোগেটাইপ ও প্রতীক দুটিই রয়েছে, যেগুলো ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে কোম্পানিকে প্রকাশ করতে ব্যবহৃত হয়। শুধুমাত্র নাইকির সুশটি স্নিকারের গায়ে ব্যবহৃত হতে পারে। যেখানে নাইকির প্রতীক (সুশ) ও লোগেটাইপের সমন্বয় কোম্পানিটির লেটারহেডে ব্যবহার করা যায়।

পার্থক্য কী গুরুত্বপূর্ণ?

লোগেকে বিভিন্ন অর্থে ব্যবহার করার জন্য বছরের পর বছর ধরে আমাদের কো ডট ডিজাইনকে প্রচুর সমালোচনা শুনতে হয়েছে। কিন্তু সত্যিকার অর্থে পার্থক্যটা একেবারেই মৌলিক।
প্রতীক ও লোগেটাইপ এক না হতে পারে, কিন্তু লোগেটাইপ ও লোগেমার্কের সংক্ষিপ্তরূপ হিসেবে লোগের ব্যবহার একেবারেই যৌক্তিক। কারণ উভয়রকম লোগেই একই উদ্দেশ্য বহন করে। প্রকৃত অর্থে এই কারনেই বেশিরভাগ সময়ে প্রতীককেও লোগেমার্ক বলা হয়। লোগেমার্ক ও প্রতীকের পার্থ্যকগুলো একজন ডিজাইনারের ক্লায়ান্ট কী চাচ্ছে তা বুঝার ক্ষেত্রে কাজে আসতে পারে অথবা পণ্ডিতব্যক্তদের কাজে আসতে পারে যারা শিক্ষাক্ষেত্রে লোগেমার্ক ও প্রতীকের মধ্যে পার্থক্য নিয়ে আলোচনা করে থাকেন। কিন্তু এক হাজারে নয়শত ৯৯ বার লোগে বলা ভুল কিছু নয়।
অ্যামুনেশান গ্রুপের অংশিদার ও আইডেনটিটি বিশেষজ্ঞ ব্রেট উইকেন্স বলেন, ‘আমার মনে হয়না এই পার্থক্য অতটা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতীক হোক বা বিচিত্র শৈলিতে লেখা শব্দ হোক বা দুটির সমন্বয় হোক প্রায় সবাই এগুলোকে লোগেই বলে থাকে। একজন ডিজাইনারের জন্য সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে কোনটি ব্যবহার করা সবচাইতে কার্যকর এবং কোনটি ব্র্যান্ডের স্বাতন্ত্র্য সঠিকভাবে বহন করবে।’

ব্রেট উইকেন্সের সাথে একমত প্রকশ করে পেন্টাগ্রামের অংশিদার মাইকেল বিয়েরুত বলেন, ‘এই বিষয়ে সবাই নিজস্ব সঙ্গা প্রদান করেছেন। পার্থক্য তখনই গুরুত্বপূর্ণ যখন আপনাকে স বিষয়ে এবগুলো বিষয়াদি অবিকলভাবে প্রকাশ করতে হবে।’
লোগে এবং প্রতীকের মধ্যে পার্থক্য খোঁজা লোকেরা থাকবেনা এমনটি আশা করা ঠিক না।
উইকিন্স বলেন, একটি ব্র্যান্ডের প্রতীকী প্রকাশের অনেকগুলো বিষয়কে একবারে প্রকাশ করার জন্য ‘লোগে’ একেবারে পূর্ণাঙ্গ পরিভাষা, আইডেনটিটি ডিজাইনের নতুন পদ্ধতিগুলো আরও অনেক ধরণের লোগে সৃষ্টি করছে। উদাহরণস্বরূপ, সংবেদনশীল লোগে, যেগুলো ব্যবহারের উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়ে থাকে।
‘অবস্থাভেদে পরিবর্তিত হয় এমন প্রতীকী গঠনের ক্ষেত্রে ‘ফ্লুইড’ বা ‘ডায়ানামিক আইডেনটিটির’ মত নাম ব্যবহার করা হচ্ছে। আমি নিশ্চিত এ বিষয়েই একটি শব্দকোষ যুক্ত হতে যাচ্ছে।’

advertising archive bangladesh